কেন এনসিপি অন্যদল থেকে এগিয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এনসিপি এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম। অন্য দলগুলো থেকে এনসিপির পার্থক্য জনগণ নিজ চোখে দেখছে। কারণগুলো স্পষ্ট:
১) নির্বাচনের পরেও জনগণের কাছে থাকে এনসিপি:-
অন্য দলগুলো ভোটের আগে মানুষের দুয়ারে যায়, ভোট শেষ হলে নেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু এনসিপি ব্যতিক্রম। নির্বাচন শেষ, তবুও চলছে ‘এনসিপি বসন্ত’। সারাদেশে একযোগে সদস্য সংগ্রহ চলছে। বিভাগীয়, কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা, থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা প্রতিদিন জনতার দুয়ারে যাচ্ছেন। মানুষের সমস্যা শুনছেন, সমাধান দিচ্ছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। এই কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করে প্রতিদিন শত শত লোক এনসিপিতে যোগ দিচ্ছে।
শুধু নেতাকর্মী নয়, এনসিপির সংসদ সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি মাঠে থাকে। হাসনাত আব্দুল্লাহ কিংবা আখতার হোসেনকে দেখলেই বোঝা যায় এমপি মানেই জনগণের সেবক হওয়া।
২) সংখ্যায় কম, প্রভাবে বেশি:-
সংসদে বিএনপির ২০০+ আসন, জামাতের ৭০ আসন। সেখানে এনসিপির প্রতিনিধি মাত্র ০৬ জন। তবুও জুলাই সনদ হোক, রাষ্ট্র সংস্কার হোক—সব আলোচনায় নাম আসে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহর। সংখ্যা দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে রাজনীতি হয়—এনসিপি সেটা প্রমাণ করেছে।
৩) তারুণ্যের নেতৃত্ব:- বাংলাদেশের বাকি সব দলের নীতিনির্ধারকরা প্রবীণ। সিদ্ধান্ত আসে সেকেলে চিন্তা থেকে। কিন্তু এনসিপির নীতিনির্ধারকেরা সবাই তরুণ। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে, প্রযুক্তি-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের বিকল্প নাই। তরুণরাই বোঝে তরুণদের ভাষা, তরুণদের স্বপ্ন।
৪) পরিবারতন্ত্র মুক্ত একমাত্র দল:-
অন্য সব দলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে বিসিবি বোর্ডে যায়, অর্থমন্ত্রীর ছেলে পায় বড় অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব। যোগ্যতা নয়, বংশ দেখে পদ দেওয়া হয়। এনসিপিতে এই পরিবারতন্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। এখানে মেধা, যোগ্যতা, সাহসিকতা আর সততার মূল্যায়ন হয়। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরাও নেতৃত্বে আসতে পারে। নেতার ছেলেই পরবর্তী নেতা হবে সেই ট্র্যাডিশন জাতীয় নাগরিক পার্টিতে নাই।
৫) সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্জন:-
বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন পাওয়া দল এনসিপি। প্রতিষ্ঠার ২ বছরের মধ্যেই একটা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, আবার সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করছে—এমন নজির আর কোনো দলের নাই। মানুষের আস্থা আর ভোটেই এনসিপি আজকের অবস্থানে।
জনগণের সাথে থাকা, তরুণ নেতৃত্ব, মেধার রাজনীতি আর পরিবারতন্ত্র মুক্ত অবস্থান—এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে এনসিপি। আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এনসিপি-ই সবচেয়ে যোগ্য দল।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন